ঢাকা ১০:৫৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৪, ৫ বৈশাখ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

হারিয়ে যাচ্ছে গ্রাম বাংলার ঐতিহ্য খেজুরের রস

আব্দুল্লাহ আল-মামুন, বিশেষ প্রতিনিধি (বাগেরহাট)
  • আপডেট সময় : ০৪:১৫:৫৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ জানুয়ারী ২০২৪ ৪৫ বার পড়া হয়েছে
আজকের জার্নাল অনলাইনের সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

শীতের আগমনী বার্তা আসার সাথে সাথেই একসময়ে গ্রাম-বাংলার প্রতিটি ঘরে খেজুরের রস দিয়ে ফিরনি, পায়েস, রসের গুড় দিয়ে ভাপাপিঠা এবং গাড় রস তৈরি করে মুড়ি, চিড়া, খই, চিতই পিঠা, দুষ চিতল, তেলের পিঠা, ভিজাইল পিঠাসহ হরেক রকম পিঠাপুলির উৎসব চলত। কালের বিবর্তনে এখন আর কিন্তু আগের মতো গ্রাম্য রাস্তার দু পাশে সারি সারি খেজুর গাছ আর দেখা যায় না। গ্রামের রাস্তাগুলো সংস্কার ও নতুন করে খেজুর গাছ রোপণে মানুষের আগ্রহের অভাবে বাংলার ঐতিহ্যবাহী খেজুর গাছ ও খেজুরের রস ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছে আমাদের মাঝ থেকে । তবে এখনো রাস্তার আশপাশে কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে অল্প কিছু খেজুর গাছ। আর রস আহরণে এখনো গ্রাম্য রীতিতেই ঝুঁকি নিয়েই কোমরে রশি বেঁধে শীতের বিকালে ছোট বড় মাটির হাঁড়ি গাছে বেঁধে তা থেকে রস সংগ্রহ করতে দেখা যায় না গাছিদের। আগে তারা এই কাঁচা রস এলাকার বিভিন্ন স্থানে ও হাটবাজারে বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। আবার কেউ কেউ সকালে রস জ্বালিয়ে তা দিয়ে গুড়-মিঠাই তৈরি করতেন । প্রতি বছর এ মৌসুমে খেজুর গাছের রস ও গুড় বিক্রি করে বাড়তি আয় করতেন গাছিরা।

কালের সাক্ষী হয়ে বাগেরহাট জেলার খুলনা- মোংলা সড়ক, বাগেরহাটের সাইনবোর্ড- মোড়েলগঞ্জ সদরসহ জেলার বিভিন্ন রাস্তার  পাশ দিয়ে সারিবদ্ধ ভাবে খেজুর গাছ রাস্তার দুই পাশ থেকে হারিয়ে যাচ্ছে বাংলা ঐতিহ্য খেজুরের রসের হাঁড়ি।

জানতে চাইলে আব্দুল করিম নামের এক গাছি বলেন, রাস্তাগুলো সংস্কার হওয়ার কারণে খেজুর গাছ কেটে ফেলা হলেও নতুন করে আর কেউ গাছ লাগাচ্ছে না। রামপাল, মোড়েলগঞ্জ, কচুয়া উপজেলার বিভিন্ন স্থানে হাতেগোনা কয়েকটি খেজুর গাছ রয়েছে বিভন্ন এলাকায়। মনির নামের আরেক ব্যাক্তি  জানান, একসময় শীত এলেই গাছি হিসেবে কাজ করতেন। গ্রামে গ্রামে গিয়ে বিক্রি করতেন খেজুরের রস। এখনো তিনি ঐতিহ্য ধরে রাখার চেষ্টা করে চলেছেন। তিনি আরও জানান, ব্রিজের কাছের গাছে তিনি কলস লাগিয়েছেন, বিকেলের দিকে গাছে কলস লাগালে সারা রাতেই তা ভরে ওঠে। জসিমের কাছ থেকে খেজুরের রস কিনতে এসেছেন রাব্বি, হৃদয়, ফরহাদ, বাবুল, কামরুল, সেলিম হোসেন সহ অনেকেই । কামরুল জানান, অনেকদিন পর খেজুরের রসের সন্ধান পেয়েছি। এ রস দিয়ে পায়েস খুব পছন্দ, তাই বাসার জন্য এক জগ রস  কিনে নিয়েছেন তিনি। এভাবে যদি প্রতিবার রাস্তা সংস্করণে খেজুরের  গাছ গুলো কেটে ফেলা হয় তাহলে এক সময় গ্রাম বাংলা থেকে হারিয়ে যাবে তার ঐতিহ্য হারিয়ে যাবে সেই ঐতিহ্য বাহী খেজুরের রস।

নিউজটি শেয়ার করুন

One thought on “হারিয়ে যাচ্ছে গ্রাম বাংলার ঐতিহ্য খেজুরের রস

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

Get free post? Yes, Accept .

হারিয়ে যাচ্ছে গ্রাম বাংলার ঐতিহ্য খেজুরের রস

আপডেট সময় : ০৪:১৫:৫৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২০ জানুয়ারী ২০২৪

শীতের আগমনী বার্তা আসার সাথে সাথেই একসময়ে গ্রাম-বাংলার প্রতিটি ঘরে খেজুরের রস দিয়ে ফিরনি, পায়েস, রসের গুড় দিয়ে ভাপাপিঠা এবং গাড় রস তৈরি করে মুড়ি, চিড়া, খই, চিতই পিঠা, দুষ চিতল, তেলের পিঠা, ভিজাইল পিঠাসহ হরেক রকম পিঠাপুলির উৎসব চলত। কালের বিবর্তনে এখন আর কিন্তু আগের মতো গ্রাম্য রাস্তার দু পাশে সারি সারি খেজুর গাছ আর দেখা যায় না। গ্রামের রাস্তাগুলো সংস্কার ও নতুন করে খেজুর গাছ রোপণে মানুষের আগ্রহের অভাবে বাংলার ঐতিহ্যবাহী খেজুর গাছ ও খেজুরের রস ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছে আমাদের মাঝ থেকে । তবে এখনো রাস্তার আশপাশে কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে অল্প কিছু খেজুর গাছ। আর রস আহরণে এখনো গ্রাম্য রীতিতেই ঝুঁকি নিয়েই কোমরে রশি বেঁধে শীতের বিকালে ছোট বড় মাটির হাঁড়ি গাছে বেঁধে তা থেকে রস সংগ্রহ করতে দেখা যায় না গাছিদের। আগে তারা এই কাঁচা রস এলাকার বিভিন্ন স্থানে ও হাটবাজারে বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। আবার কেউ কেউ সকালে রস জ্বালিয়ে তা দিয়ে গুড়-মিঠাই তৈরি করতেন । প্রতি বছর এ মৌসুমে খেজুর গাছের রস ও গুড় বিক্রি করে বাড়তি আয় করতেন গাছিরা।

কালের সাক্ষী হয়ে বাগেরহাট জেলার খুলনা- মোংলা সড়ক, বাগেরহাটের সাইনবোর্ড- মোড়েলগঞ্জ সদরসহ জেলার বিভিন্ন রাস্তার  পাশ দিয়ে সারিবদ্ধ ভাবে খেজুর গাছ রাস্তার দুই পাশ থেকে হারিয়ে যাচ্ছে বাংলা ঐতিহ্য খেজুরের রসের হাঁড়ি।

জানতে চাইলে আব্দুল করিম নামের এক গাছি বলেন, রাস্তাগুলো সংস্কার হওয়ার কারণে খেজুর গাছ কেটে ফেলা হলেও নতুন করে আর কেউ গাছ লাগাচ্ছে না। রামপাল, মোড়েলগঞ্জ, কচুয়া উপজেলার বিভিন্ন স্থানে হাতেগোনা কয়েকটি খেজুর গাছ রয়েছে বিভন্ন এলাকায়। মনির নামের আরেক ব্যাক্তি  জানান, একসময় শীত এলেই গাছি হিসেবে কাজ করতেন। গ্রামে গ্রামে গিয়ে বিক্রি করতেন খেজুরের রস। এখনো তিনি ঐতিহ্য ধরে রাখার চেষ্টা করে চলেছেন। তিনি আরও জানান, ব্রিজের কাছের গাছে তিনি কলস লাগিয়েছেন, বিকেলের দিকে গাছে কলস লাগালে সারা রাতেই তা ভরে ওঠে। জসিমের কাছ থেকে খেজুরের রস কিনতে এসেছেন রাব্বি, হৃদয়, ফরহাদ, বাবুল, কামরুল, সেলিম হোসেন সহ অনেকেই । কামরুল জানান, অনেকদিন পর খেজুরের রসের সন্ধান পেয়েছি। এ রস দিয়ে পায়েস খুব পছন্দ, তাই বাসার জন্য এক জগ রস  কিনে নিয়েছেন তিনি। এভাবে যদি প্রতিবার রাস্তা সংস্করণে খেজুরের  গাছ গুলো কেটে ফেলা হয় তাহলে এক সময় গ্রাম বাংলা থেকে হারিয়ে যাবে তার ঐতিহ্য হারিয়ে যাবে সেই ঐতিহ্য বাহী খেজুরের রস।